বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : ইসরায়েলে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে ইউরোপ ও আফ্রিকাসহ ১০৪ দেশ চিঠি দিয়েছে। তবে সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেনি ভারত। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিবের ইসরায়েলে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এতে ইসরায়েলের সমালোচনায় সরব হয়ে ওঠে গোটা বিশ্ব। ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে চিলির উদ্যোগে একটি চিঠি লেখা হয়। জাতিসংঘে প্রচারিত ওই চিঠিতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিবেশি বেশিরভাগ দেশ, সেই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকার দেশগুলো স্বাক্ষর করলেও ভারত করেনি।
ইসরায়েলের সমালোচনা করে, গ্লোবাল সাউথের এমন বেশ কয়েকটি প্রস্তাব থেকে ভারত সরে এসেছে এবং ফিলিস্তিনি ইস্যুতে অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। চিলির দেওয়া এবং ব্রাজিল, কলম্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, উগান্ডা, ইন্দোনেশিয়া, স্পেন, গায়ানা ও মেক্সিকোর সমর্থনপুষ্ট একটি চিঠিতে ভারতের সই না করার সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটিকে কোনো পক্ষের সমর্থন নয় বরং জাতিসংঘের মহাসচিব ও জাতিসংঘের পক্ষের সমর্থন হিসেবে দেখা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ প্রতিবেশী দেশ, পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশ যারা উন্নয়নশীল বিশ্বের অংশ, তারা গত সপ্তাহে জাতিসংঘে দেওয়া ওই চিঠিতে সই করে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মহাসচিবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে ১০৪ সদস্য-রাষ্ট্র। ও আফ্রিকান ইউনিয়নসহ মোট সইকারী ১০৫। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করে, যার মধ্যে রয়েছে দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা ও মানবিক সহায়তা প্রদান।
চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এ হামলার নিন্দা না জানানোয় গত ২ অক্টোবর ইসরায়েল জাতিসংঘ মহাসচিবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইসরায়েলি মন্ত্রী কাৎজ বলেন, গুতেরেস ইসরায়েলের মাটি পা রাখার যোগ্য নন।
চিলির চিঠিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত ১০ সদস্য রাষ্ট্র, যেমন ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, স্লোভেনিয়া ও সুইজারল্যান্ড সমর্থন দেয়। তবে সই করেনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া
ভারত কেন চিঠিতে সই করেনি, তা নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে গত ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ভারতের জন্য গুতেরেস জাতিসংঘের মহাসচিব। তৃতীয় পক্ষ কী বলল তা আমাদের মন্তব্য করার বিষয় নয়।
আসিফ নজরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার কী নির্মমভাবে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়েছিল! দিনে দিনে আমরা মৃতদের নতুন সংখ্যা পাচ্ছি, সংবাদ পাচ্ছি। হাজার হাজার মানুষের অঙ্গহানি ঘটেছে। গুরুতর আহত হয়েছেন। চিরদিনের জন্য বিকলাঙ্গ হয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কেন, এ উপমহাদেশের ইতিহাসে শান্তিকালীন সময়ে এত বড় গণহত্যার নজির কোথাও নেই। পৃথিবীতেও এটি খুবই বিরল বলা চলে। সেই অপরাধের বিচার যেখানে হবে, তা পরিদর্শন করেছি। পূর্ত উপদেষ্টার সক্রিয় ভূমিকার কারণে অতিদ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করছি। আমরা আশা করছি, ১ নভেম্বরের মধ্যে সংস্কার হওয়া ভবনে ঐতিহাসিক বিচারকাজ শুরু হওয়ার কথা।
ট্রাইব্যুনালে কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আসিফ নজরুল বলেন,আমাদের প্রসিকিউশন টিম আছে। এটি তো মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। প্রসিকিউশন টিম আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নেবে। আমরা এটুকু বলতে চাই বিচার হবে, তবে তা সুবিচার।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply